Home কৃষি ধান-কলার রং চকচকে করতে ব্যবহার হচ্ছে শ্যাম্পু ও গুল!

ধান-কলার রং চকচকে করতে ব্যবহার হচ্ছে শ্যাম্পু ও গুল!

596
0

আনোয়ার হোসেন আলীরাজ
ফসল ফলাতে গিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতায় অনেক কৃষক নতুন নতুন উদ্ভাবন ঘটিয়েছেন। যেগুলো পরবর্তীতে ব্যবহারও করেছে তারা। তবে এবার উত্তরের জেলা সিংড়ায় কলা এবং ধানের রং চকচকে করতে কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে মাথার চুলে দেওয়া শ্যাম্পু এবং গুল।

এতে ধান সহ সবজি ও কলার গায়ের রং ভালো হচ্ছে বলে দাবী কৃষকদের। এতে করে বাজারে দামও বেশী পাচ্ছে তারা। যার কারনে নতুন এই ফর্মূলা বেছে নিয়েছে তারা।

তবে বিচ্ছিন্ন কিছু কৃষক ব্যবহার করে ভাল ফলাফল ভাল পাওয়ার কারনে এবারের বোরো মৌসুমে উপজেলার সর্বত্র কৃষকরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

এদিকে, কৃষকদের নতুন এই ফর্মূলা মাটির গুণাগুণ এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কিনা তা নিয়ে স্পস্ট ধারনা দিতে পারেনি কৃষি কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য বিভাগ।

কৃষকরা জানান, ধান, কলা, সবজি সহ বিভিন্ন ফসল ফলাতে গিয়ে পোক-মাড়কের আক্রমন নিয়ে দিশেহারা হতে হয় তাদের। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে বিভিন্ন সময় বাজার থেকে কীটনাশক এনে স্প্রে করলেও অনেক সময় পোক দমন হয়না। যার কারনে পোকার আক্রমনে দিশেহারা হতে হয় তাদের।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃষকদের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক ভেজাল কোম্পানী ডিলারদের উৎকোচ দিয়ে কীটনাশক বিক্রি করে। ওই সব ডিলারদের কাছ থেকে কীটনাশক এনে জমিতে স্প্রে করলেও ফলাফল শূণ্য পাওয়া যায়। যার কারনে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় কৃষকদের।

গত আমন মৌসুমে শেরকোল গ্রামের কিছু কৃষকরা বোরো জমিতে গুল (পান মসলা) ও শ্যাম্পু ব্যবহার করছেন। পোকা-মাড়ক দমনের পাশাপাশি ধান এবং কলায় কৃষকদের উদ্ভাবিত নতুন এই ফর্মূলা ব্যবহার করে সফলতাও পেয়েছেন তারা। এখন ওই গ্রামের বেশির ভাগ কৃষক এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এছাড়া তাদের দেখাদেখি পাশ্ববর্তী লালোর এবং কলম গ্রামের কৃষকরা নতুন ওই ফর্মূলাটি ব্যবহার করছে।

উপজেলার আগপাড়া গ্রামের কলাচাষী মকবুল হোসেন জানান, কলার গায়ের রং খারাপ অথবা চেরারোগ দেখা দিলে গায়ে মাখা শ্যাম্পু ও গুল ব্যবহার করলে রোগ বালাই দুর হয় এবং কলার গায়ের রং চকচক হচ্ছে।

লালোর ইউনিয়নের মাদারী গ্রামের মোহাম্মদ আলী জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি বোরো ধানে শ্যাম্প ব্যবহার করে আসছেন।

তিনি বলেন,ধান ফুলে বের হওয়ার পর ১৬লিটার পানিতে ১টাকা দামের একটি শ্যাম্পু পানিতে মিশিয়ে স্প্রে মেশিন দিয়ে ছিটিয়ে দিলে ধানের রং চকচক করে।

শেরকোল ইউনিয়নের আরেক কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, তিনি কয়েক বছর ধরে বোরো জমিতে গুল (পান মসলা) ও শ্যাম্প ব্যবহার করছেন। বোরো ধান লাগানোর পরে জমিতে লালচেরা ধানের চারার গোড়ায় থাকে ফলে ধানের শিকড় গোজাতে সময় লাগে।

তিনি বলেন,ধান লাগানোর ৭ থেকে ১০দিনের মধ্যে বিঘা প্রতি ২৪টি গুল সারের সঙ্গে মিশিয়ে ছিটিয়ে দিলে লালচেরার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। তার দাবী শাক-সবজিসহ ধানে শ্যাম্পু ব্যবহার করলে সবজি চকচক করে এবং বাজারে দাম বেশী পাওয়া যায়।

এবিষয়ে সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু কৃষক ধানে শ্যাম্পু ব্যবহার করছে বলে বিষয়টি শুনেছি। শ্যাম্পু ব্যবহার করায় নাকি ধানের রং চকচকে হয়। তবে এর বৈজ্ঞানিক কোন ব্যাখা নেই।

আর গুল ব্যবহারে নাকি কৃষকরা উপকার পেয়েছে। গুল কীটনাশকের কাজ করায় হয়তো ফলাফল পাওয়ার কারনে মুষ্টিমেয় কিছু কৃষক গুলের ব্যবহার করছেন।

তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা নেওয়ার জন্য কৃষি গবেষকদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছি। তবে গুল এবং শ্যাম্প যেহেতু স্প্রে করা হচ্ছে, সেকারনে মাটির কোন ক্ষতি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বিষয়টি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কিনা এমন প্রশ্নে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল ইসলাম বলেন, এই বিষয়ে আমাদের কাছে স্পষ্ট কোন ধারনা নেই। তবে আমার ব্যক্তিগত মতামত, মানবদেহের জন্য ক্ষতির কারণ নাও হতে পারে। এবিষয়ে বিস্তারিত গবেষনার প্রয়োজন।

Previous articleসিংড়ায় ডাকাতি চেস্টাকালে অস্ত্র গুলি সহ আটক ৩
Next articleওরা লাল-সবুজের ফেরিওয়ালা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here