Home সজাগ অনুসন্ধান নাটোরে কালো তালিকাভুক্ত ৩১নেতার নাম গেল ঢাকায়!

নাটোরে কালো তালিকাভুক্ত ৩১নেতার নাম গেল ঢাকায়!

7693
0

বিশেষ প্রতিবেদক

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগে ফুলে ফেঁপে উঠা নাটোরের ৩১নেতার নাম কালো তালিকা ভুক্ত করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। আর ওই ৩১ নেতার নামে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তালিকা পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। তালিকায় জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে নাটোর সদরে আওয়ামীলীগ নেতাদের সংখ্যাটাই সব চেয়ে বেশি।

গোয়েন্দাদের তালিকায় সংসদ সদস্য, আওয়ামীলীগ নেতা, ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ নেতাদের নাম রয়েছে। তবে কালো তালিকা ভুক্ত নেতাদের গোয়েন্দা নজরদারীতে রেখেছে তারা। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা আসা মাত্রই গ্রেফতার হতে পারেন ওই সব নেতারা, এমনটিই বলছে গোয়েন্দা সূত্রটি।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, কালো তালিকার মধ্যে নাটোর সদরে ১৬জন, নলডাঙ্গা উপজেলায় ২জন, লালপুর উপজেলায় ২জন, বাগাতিপাড়া উপজেলায় ২জন, সিংড়া উপজেলায় ৫জন, গুরুদাসপুর উপজেলায় ২জন এবং বড়াইগ্রাম উপজেলায় ২জন রয়েছে।

মোট ৩১জনের মধ্যে সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্য, আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা, ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতারা রয়েছেন। যারা দল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন।

সূত্র বলছে, সরকারী চাকুরির পাশাপাশি দলের প্রভাব বিস্তার করে কোটিপতি বনে গেছেন কেউ কেউ। ওই নেতার নামে অন্যের জায়গা দখল সহ নানা অভিযোগ রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। এছাড়া দল ক্ষমতায় আসার পর নিজের নামে না রেখে স্ত্রীর নামে ব্যাংকে রাখা হয়েছে কোটি কোটি টাকা, পৌরসভার এমন এক জনপ্রতিনিধির নাম উঠে এসেছে গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে।

সূত্রটি আরও বলছে, বিগত দিনে টাকা পয়সা তেমন না থাকলেও জেলার দুইজন ছাত্রলীগ নেতা, পদ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসা করে কোটিপতি বনে গেছেন। নাটোর শহরে একাধিক বাড়ি সহ ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। ওই দুইজন নেতার কারনে দলে বিভেদ তৈরীর পাশাপাশি ভেঙ্গে পড়েছে দলটির কার্যক্রম।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, বর্তমান সরকারের তিন মেয়াদে অনেক নেতাই অবৈধ ভাবে ফুলে ফেঁপে উঠে। ওই সব নেতারা টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন উপায়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অন্য দল থেকে এসেই ক্ষমতাসীন দলে পদ পাওয়ার পর অনিয়ম-দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তারা। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে কারও কারও নামে।

সম্প্রতি রাজধানীতে ক্যাসিনো বিরোধি অভিযানে যুবলীগ নেতাদের কেলেংকারী ফাঁস হওয়ার পর ক্ষমতাসীন দলে শুদ্ধি অভিয়ান জড়ালো হয়। এরই মধ্যে গবেষনায় ৯৭শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর দূর্নীতি বিরোধি এই অভিযানে সমর্থন করে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নাটোরের সাতটি উপজেলায় কালো তালিকা তৈরী করে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এই তালিকায় বর্তমান সংসদ সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা, ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ নেতাদের নাম উঠে এসেছে।

এছাড়া তালিকায় উপজেলা এবং পৌরসভার বেশ কিছু জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন। তাছাড়া বিভিন্ন কাজে অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা আয় করা বেশ কিছু ঠিকাদারের নাম উঠে এসেছে তালিকায়। ইতোমধ্যে তালিকাটি ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পরই কালো তালিকা ভুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলতে পারে বলে জানান সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা।

Previous article২১ মাসে পিটিয়ে হত্যার শিকার ৫৫৪ জন
Next articleফেনসিডিল রাখার দায়ে তরুণের ৭ বছর কারাদন্ড

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here