নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাটোর সদর উপজেলা খাদ্য গোডাউনে পচা চাল প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। ঈশ্বরদীর মুলাডুলি থেকে দুটি ট্রাকে ৪০টন সরকারী চাল খালাস করতে নির্ধারিত দিনের চার দিন পর গোডাউনে এসে পৌছে ট্রাক দুটি।

এক থেকে দেড় ঘন্টার পথ আসতে চার দিন লাগায় কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রবীন্দ্র লাল চাকমাকে। এছাড়া কারিগরি খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারুক হোসেন এবং সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার জানান, মুলাডুলি কেন্দ্রীয় খাদ্য গোডাউন এবং নাটোর সদর উপজেলা খাদ্য গোডাউনে একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যেরা এই কাজগুলো করে থাকে। নাটোর সদর খাদ্য গোডাউন কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন ওই চক্রের একজন সদস্য।

জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই ঈশ্বরদীর মুলাডুলি সেন্ট্রাল সাপ্লাই ডিপো (সিএসডি) থেকে ঢাকা মেট্রো ট- ২৪-০৪৮৪ এবং ঢাকা মেট্রো ট- ২৪-০৪৮৫ নামে এই দুই ট্রাকে মোট ৪০টন চাল চাল লোড দেওয়া হয়। ট্রাক দুটি নাটোর সদর উপজেলা খাদ্য গোডাউনে এসে আনলোড করার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের চার দিন পর শুক্রবার সন্ধ্যায় অন্য দুটি ট্রাক ঢাকা মেট্রো -চ- ২০-৪৭৪১ এবং ঢাকা মেট্রো-ট- ১৮-৩৪৮১ নম্বরের ট্রাক দুটি গোডাউনে আসে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মেসার্স আবু সাইদ এবং মোহাম্মদ এন্টার প্রাইজ নামে দুই ঠিকাদারেরর ঢাকা মেট্রো ট- ২৪-০৪৮৪ এবং ঢাকা মেট্রো ট- ২৪-০৪৮৫ ট্রাক দুটি ৪০টন সরকারী চাল নিয়ে নাটোর সদর উপজেলা গোডাউনে না এসে সান্তাহারে চলে যায়। সেখান থেকে নিম্ন এবং পচা চাল লোড করে একদিন পর নাটোর সদর উপজেলা খাদ্য গোডাউনে আসেন।

কিন্তু গোডাউন কর্মকর্তারা চালগুলো রিসিভ না করায় ট্রাক দুটি চলে যায়। পরবর্তীতে সিন্ডিকেট চক্রটি নির্ধারিত ট্রাকের বাহিরে চার দিন পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রো -চ- ২০-৪৭৪১ এবং ঢাকা মেট্রো-ট- ১৮-৩৪৮১ নম্বরের ট্রাক দুটি চাল নিয়ে গোডাউনে আসে।

পরে বিষয়টি জানা জানি হলে রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে নাটোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রবীন্দ্রলাল চাকমা কে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠণ করেন। কমিটির আরও দু সদস্য কারিগরি খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারুক হোসেন এবং সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম। এই তিন সদস্য বেলা ৩টার দিকে ট্রাক পরিদর্শণ করে চাল আনলোড করার অনুমোদন দেয়।

অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য গোডাউন কেন্দ্রীক একটি চক্র, ভাল চাল পরিবর্তণ করে মাঝে মধ্যেই খারাপ চাল গোডাউনে প্রবেশ করায়। এক্ষেত্রে সহযোগিতা করেন গোডাউনের খাদ্য কর্মকর্তরা। এই সিন্ডিকেট চক্র দীর্ঘ দিন ধরেই এই কাজগুলো করে আসছেন। কিন্তু তথ্য প্রমাণের অভাবে চক্রটি থেকে যাচ্ছে ধোরাছোয়ার বাহিরে।

মুলাডুলি খাদ্য গোডাউন থেকে নাটোর গোডাউনে চাল আসতে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘন্টা। কিন্তু চার দিন পর ট্রাক দুটি চাল নিয়ে গোডাউনে প্রবেশ করেছে। এক্ষেত্রে কোন রহস্য রয়েছে। দেড় ঘন্টার পথ কেন তারা চার দিন পর আসবে, এই কারন অনুসন্ধানের জন্যই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার জানান, মুলাডুলি কেন্দ্রীয় খাদ্য গোডাউন এবং নাটোর সদর উপজেলা খাদ্য গোডাউনে একটি বড় সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যেরা এই কাজগুলো করে থাকে। নাটোর সদর খাদ্য গোডাউন কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন ওই চক্রের একজন সদস্য।

তবে নাটোর সদর উপজেলা খাদ্য গোডাউন কর্মকর্তা (ওসি এলএসডি) মফিজ উদ্দিন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কোন ট্রাকে চাল আসলো, এটা আমাদের দেখার বিষয় না, ভাল চাল আসলেই আমরা আনলোড করার অনুমতি দেই। এক্ষেত্রে যানবাহন কোন ফ্যাক্টর না।

রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, কিছু পরিবহন ঠিকাদারের কারনে ভাল ঠিকাদারদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমরাও চাই সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী করছি।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রবীন্দ্র লাল চাকমা বলেন, মুলাডুলি খাদ্য গোডাউন থেকে নাটোর গোডাউনে চাল আসতে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘন্টা। কিন্তু চার দিন পর ট্রাক দুটি চাল নিয়ে গোডাউনে প্রবেশ করেছে। এক্ষেত্রে কোন রহস্য রয়েছে। দেড় ঘন্টার পথ কেন তারা চার দিন পর আসবে, এই কারন অনুসন্ধানের জন্যই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আমরা তদন্ত কমিটি পরির্দশণ করে চাল আনলোড করার অনুমোদন দিবো এবং কারা এর সাথে জড়িত সে বিষয়ে অনুসন্ধান করে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রবীন্দ্র লাল চাকমা বলেন, সিন্ডিকেট চক্রের সাথে খাদ্য গোডাউনোর কোন কর্মকর্তার সম্পৃত্ততা থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Previous articleনাটোর জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা
Next articleনাটোর থেকে ঢাকায় যেতে লাগছে ৮’শ থেকে ২হাজার টাকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here