Home গুরুদাসপুর বঙ্গবন্ধুর সেই আব্দুল কুদ্দুস এমপি আর নেই…

বঙ্গবন্ধুর সেই আব্দুল কুদ্দুস এমপি আর নেই…

562
0
আব্দুল কুদ্দুস এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নাটোর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পাঁচবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি ইন্তেকাল করেছেন। ((ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন))। বুধবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টা ২০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি’র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি’র প্রথম নামাজে জানাজা সকাল ১১টায় ৪ নং ন্যাম ভবন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

৩১ অক্টোবর ১৯৪৬ সালে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ইউনিয়নের চলনবিল এর বিলসা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি। পিতা মো: হায়েতুল্লাহ সরদার পেশায় ছিলেন কৃষক ও মাতা মোছা: গুলেনুর বেগম ছিলেন গৃহিণী। ৭/৮ বছর বয়সে তাঁর বাবা মারা যায়। সেই ছোট বেলায় পিতৃহারা চলনবিলের মধ্যে একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে রাজশাহী কলেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন এবং ইংরেজীতে এম এ পাশ করেন তিনি।

ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি প্রবীণ ও বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের। রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফার ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। ১৯৬৮-৭২ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন । ১৯৬৯ এর গনঅভূর্থানের সময় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ছিলেন, তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে সেই সময় রাজশাহীর ছাত্ররা রাজপথ প্রকম্পিত রাখত। সেই গণঅভ্যুত্থানের মুখে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় শাসকচক্র।

অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি কমান্ডার হিসেবে জীবন বাজি রেখে পাক হায়েনার বিরুদ্ধে প্রানপণে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধে তাঁর বড় ছেলে শহীদ কল্লোল পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক নিহত হয় ।

দেশ স্বাধীন হবার পর তিনি (১৯৭২-৭৪) রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু কে হত্যার পর তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী রাজশাহী জেলায় যে ব্যক্তিকে প্রথম গ্রেফতার করেন তিনি আব্দুল কুদ্দুস ( ১৯৭৫ এর ১৭/১৮ আগষ্ট)। খুনিচক্র তাঁকে কারাগারে নিক্ষিপ্ত করে। দীর্ঘ ৫ বছর কারাভোগ করেছেন, তবু ঘাতকদের কাছে মাথানত করেন নাই।

কারাগারে থাকা অবস্থায় রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন । ১৯৮২-৮৬ পর্যন্ত রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। রাজশাহী মহানগর গঠিত হলে ১৯৮৬-১৯৯০ পর্যন্ত তিনি রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

সামরিক শাসকের অবসানের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। তিনি মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন । তিনি নির্বাচনী এলাকা ৬১,নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর) আসনে সর্বমোট ৭বার দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী, বঙ্গবন্ধুর স্নেহাশিস সহযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ২লাখ ৮৬ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে টানা ৩য় বার ও সর্বমোট ৫ম (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৩ ও ২০১৮) বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি নাটোর -৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য এবং নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িতত্ব পালন করে গেছেন।

Previous articleযাবজ্জীবন সাজা থেকে বাঁচতে ২৫ বছর ধরে পলাতক : অবশেষে স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার
Next articleবড়াইগ্রামে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here