Home কৃষি ভোট না দেওয়ায় কৃষকের পাঁকা ধান কাটতে বাঁধা!

ভোট না দেওয়ায় কৃষকের পাঁকা ধান কাটতে বাঁধা!

69
0
ধান কাটতে বাধা

সিংড়া প্রতিনিধি:
নাটোরের সিংড়ায় সুশেন কুমার প্রামানিক নামে এক সংখ্যালঘু কৃষকের আড়াই বিঘা জমির পাকা ধান কাটতে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে পাকা ধান জমিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।

গত ইউপি নির্বাচনে ফ্যান প্রতীকে ভোট না করার অপরাধে ওই কৃষকের জমির পাকা ধান কাটতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য দুলাল চন্দ্র ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা বিকাশ সরকারের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও অন্যের শ্যালো মেশিন থেকে পানি সেচ দিতে না পেরে ওই কৃষকের প্রায় দশ কাটা জমির মরিচ গাছ ও সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের দুর্গম বেলগাড়ী গ্রামে।

তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য (মেম্বার) দুলাল চন্দ্র ওই কৃষককে ধান কাটতে দেওয়া হচ্ছে না বিষয়টি সঠিক নয় দাবি করে বলেন, গ্রামের লোকজনের সাথে বনিবনা না হওয়ায় তাকে এক ঘরে করে রাখা হয়েছে। আর যেটা করা হয়েছে গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তক্রমেই করা হয়েছে বলে বাহবা নেন তিনি। তিনি আরো বলেন, প্রায় ৪ মাস আগে থেকেই গ্রামবাসী বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

আর আ’লীগ নেতা বিকাশ সরকার গ্রামের শ্রমিকদের ওই কৃষকের ধান কাটতে নিষেধ করেছেন স্বীকার করে বলেন, বেলগাড়ী গ্রামে মোট ৬৩ ঘর বসতি রয়েছে। আমরা ৬২ ঘর ওর সাথে সমাজ-জামাত করি না। তাতে আমরা ৬২ ঘর ভালো হলেও ভালো, আর খারাপ হলেও খারাপ। তবে অন্য জায়গার শ্রমিক এসে ওই ধান কেটে দিলে তাদের কোন আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে বেলগাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের শ্রমিকদের ধান কাটতে নিষেধ করায় কৃষক সুশেন কুমার প্রামানিক এর প্রায় আড়াই বিঘা জমির পাকা ধান মাঠে পড়ে রয়েছে। এছাড়া সেচ দিতে না পারায় মরিচ গাছ ও সবজি নষ্ট হয়ে গেছে।

পাশের জমিতে কাজে ব্যস্ত শ্রমিক শ্রী অতুল বলেন, গ্রামের মাতব্বররা ধান কাটতে নিষেধ করায় কেউ আর তার জমির ধান কাটতে রাজি নয়।

আর ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত বিমান বলেন, শুনেছি মরিচ ও সবজিতে সেচ দিতে দিচ্ছে না। আর এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না।

ভুক্তভোগী কৃষক সুশেন কুমার প্রামাণিক অভিযোগ করে বলেন, গত নির্বাচনে ফ্যান প্রতীকের ভোট না করে মোরগ প্রতীকের ভোট করায় তার জমির ধান কাটতে দেওয়া হচ্ছে না। চলাফেরায় বাঁধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এবিষয়ে গ্রাম্য প্রধান সুকেশ চন্দ্র বাবু বলেন, গ্রামবাসীকে ডেকে ক্ষমা চাইলেই তো সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

এবিষয়ে সুকাশ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন বলেন, কাউকে এক ঘরে করে রাখা বা ধান কাটতে শ্রমিকদের নিষেধ করা, এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। এবিষয়ে সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ভুক্তভোগি কৃষকের ধান কাটার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

Previous articleনাটোরে দু’বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৭জন নিহত
Next articleইউএনও’র জীপ নিয়ে কলেজে যান স্ত্রী: জীপের চাপায় প্রাণ গেল সাংবাদিকের

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here