Home মুক্তমত “রাজনৈতিক প্রশ্রয়েই ইসলামিক মৌলবাদ “

“রাজনৈতিক প্রশ্রয়েই ইসলামিক মৌলবাদ “

55
0

১৯৭১সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল সাম্য এবং অসম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে। আমরা এই জেনারেশন কি আজো তার সুফল দেখতে পেয়েছি??? মোটেও না। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে ধর্মকেই ব্যবহার করা হয়েছে বার বার। সামগ্রিকভাবে যদি বলি, প্রথমত এদেশটি ৮০% মানুষ এখনো ধমান্ধ।

মাদ্রাসার ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থায় লক্ষ লক্ষ শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। শুধু স্বর্গেযাওয়াই এই শিক্ষার মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য। এই ভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কি??

 

আমরা সব জেনে বুঝেও রাজনৈতিক স্বার্থচরিতার্থ করবার জন্য ধর্মের নামে এই গোড়ামী কে প্রশ্রয় দিয়ে হাজার হাজার ছেলে মেয়েদের অন্ধকারে বোকা বানিয়ে রাখছি। এরা কখনও ব্যবহার হচ্ছে ধর্ম ব্যবসায়ীদের দ্বারা। কখনো ব্যবহার হচ্ছে ক্ষমতায় টিকে থাকবার হাতিয়ার হিসেবে আবার কখনো ব্যবহার হচ্ছে ক্ষমতায় যে দল যেতে চায় তাদের হাতিয়ার হিসেবে। আমরা আজকে খোলা মনে সত্য বলতে পারছি না। আমাদের বলার স্বাধীনতাকে বন্ধ করে রাখা হয়েছে কখনো ধর্মীয় শক্তি দিয়ে আবার কখনো রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে।

গনতন্ত্র শব্দ টি ব্যবহার করি আমরা রাজনৈতিক ভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে। মূলত বাংলাদেশে কখনোই গনতন্ত্রের চর্চা ছিল না। ধর্মান্ধ, জংগি এবং ধর্মের নামে উন্মাদনা ক্রমশঃ বেড়েই চলছে লাগাম হীন। কোন সরকারই মাদ্রাসা গুলোতে শিক্ষা ব্যবস্তার পরিবর্তন আবার চেষ্টা করেননি। যেটা দেশ ও জাতির আগামীর জন্য অত্যন্ত জরুরী হয়ে দাড়িয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও কেন একজন অভিভাবক দারিদ্র্তার কারনে ছোট ছোট শিশুদের এতিমখানার নামে মাদ্রাসায় ঠেলে দিবে। যেখান জ্ঞান ও মনন বিকাশের কোন সূযোগ নেই।

ফলে এই শিশুরাই মাদ্রাসা নামক দীর্ঘদিনের এই ধর্মান্ধ ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্তায় দিনের পর দিন জংগীতে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশে এখনো জংগী মৌলবাদীদের আবাহ রয়েছে। আমরা কেউ নিরাপদ নই। সত্য বললে আমাদেরকে নাস্তিক উপাধি দিয়ে হত্যা করা হয়। এবং সেই হত্যাকারীরা রাজনৈতিক প্রশ্রয়েই পার পেয়ে যায়। প্রগতীশীল বহু জনকেই নাস্তিক ব্যাখ্যা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজো কোন একটি বিচার বাংলাদেশে হয়নি।

নারীরা আজও শরিয়া আইন এর আবহে বাল্যবিবাহ, বহু বিবাহ ছাড়াও প্রকারভেদে স্বাধীনতাহীনতার শিকার।আমরা যে ভাবে বাংলাদেশে মাদ্রাসা নামক ইসলামিক গোড়ামী যুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই, তেমনি গুনগত একটি গনতন্ত্রের প্রত্যাশা করি। জাতির সার্বিক মুক্তির প্রয়োজন।

লেখক -নুশান নুয়েলী, ১৪ এপ্রিল ২০২১খ্রি.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here