Home গুরুদাসপুর সভাপতি ও অধ্যক্ষ সেজে সরকারি কলেজে নিয়োগ দিচ্ছেন তারা !

সভাপতি ও অধ্যক্ষ সেজে সরকারি কলেজে নিয়োগ দিচ্ছেন তারা !

140
0
নিয়োগ নিয়ে প্রতারনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গুরুদাসপুর:
সরকারি বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজের সভাপতি দাবি করে অধ্যক্ষসহ ৬১জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ ২০২০ সালে কলেজটি সরকারিকরণ করা হয়েছে। গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল শাহ ওই নিয়োগ বাণিজ্য করছেন। তার বিরুদ্ধে ওএমএসের সরকারি চাল চুরির অভিযোগও রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, অভিযুুক্ত জালাল শাহ নিজেকে সদ্য সরকারি হওয়া এই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দাবি করে ২০১২ সালের তারিখে নিয়োগদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে অন্তত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শাহ জালাল এর বাড়ি উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে। সেখানেই তিনি টিনশেডের একটি কক্ষে বসে এসব কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় হাজতবাসের অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বাবুল আক্তার বাবুকে ভূয়া অধ্যক্ষ সাজিয়ে আব্দুল মতিন, জিয়াউর রহমান, জহুরুল হক, মিন্টু, আব্দুল মালেক, আনিসুর রহমানসহ অন্তত ৬১জনকে শিক্ষক-কর্মচারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব লোকজন নিয়ে বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। এদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ভর্তি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন কলেজ ক্যাম্পাসেই।

ভূগল বিষয়ে প্রভাষক পদে নিয়োগ নেওয়া জামরুল ইসলামের চাচা শাহআলম বলেন, তারা জানতে পারেন কলেজের পুড়নো শিক্ষক-কর্মচারীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। একারণে জালাল শাহ’র মাধ্যমে তার ভাতিজাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মতো আরো অনেকেই একই পন্থায় নিয়োগ নিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. তমাল হোসেন বলেন, সভাপতি দাবি করা জালাল শাহ এবং অধ্যক্ষ দাবি করা বাবুল আক্তারের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। কেন তারা কলেজের নাম ভাঙ্গাচ্ছেন সে ব্যপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে রোববার। মূলত তদন্তের পরই মূল ঘটনা বলা যাবে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজটি প্রতিষ্ঠা করতে প্রতারক জালাল শাহ’র চাচা আব্দুর রাজ্জাক, লোকমান, বারেক ও রবিউল শাহ ১০৭ শতাংশ জমি দান করেন। সেসময় গুরুদাসপুর সামসুজ্জোহা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন প্রতিষ্ঠাতা হয়ে বেড়গঞ্জরামপুর গ্রামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।

অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম সাঈদ অভিযোগ করেন, কলেজের নামে দেওয়া জমিটি আগেই অন্যদের কাছে বিক্রি করেছেন দাতাগণ। আবার জমি ফেরত চেয়ে আদালতে মামলাও করেছেন। এছাড়া তাকে শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করেছেন একাধিক বার। কলেজের নামে ভূয়া জমি দান করা এবং জালাল শাহ’র উৎপাতে ১৫ সালে কলেজটি গুরুদাসপুর সদরের স্থানান্তর করা হয়। সদ্য জাতীয়করণ হওয়ায় পুড়নো শিক্ষক-কর্মচারীদের বাদ দিয়ে জালাল শাহ অবৈধভাবে নতুন করে নিয়োগ দিচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত জালাল শাহ লোকবল নিয়ে চাঁদার দাবিতে প্রায়শই কলেজের পাঠদানে বিঘ্ন ঘটাতেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সেসময় কলেজটি গুরুদাসপুর সদরে স্থানান্তর করেন। তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হলেও নামের মিল থাকায় জালাল শাহ অবৈধভাবে নিজেকে সভাপতি দাবি করে নিয়োগ বাণিজ্য করছেন।

অভিযুক্ত জালাল শাহ ও অধ্যক্ষ দাবি করা বাবুল কোন তথ্য দেননি। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ব্যপারেও কোন বক্তব্য দেননি। উপরন্ত সাংবাদিকদের সাথ অশভোন আচরণ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here